বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বেহাল বিহারীপুর সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বাহুবলে পূর্ব বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৪০ সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে একটি শাটার বিকল, দেড় মাস গ্যারেজবন্দি বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স

বানিয়াচংয়ে শীতের পরশে জমে উঠেছে পিঠা বিক্রি

রায়হান উদ্দিন সুমন, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) : শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। শীত এলে শহর, নগর ও গ্রামে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে। শীতের পিঠা গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মৌসুমে গ্রামীণ বধূরা রকমারী পিঠা তৈরি করেন। শীতের পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা (ধুপি পিঠা) একটি অন্যতম পিঠা। ভাপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাপা, কখনো ঝাল ভাপা। খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর। শীত এলেই শহর ও গ্রামীণ হাটবাজারে নানা রকম পিঠা বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতল পিঠা। এসব পিঠার সমাদর সবখানেই সমানভাবে রয়েছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে শহরের ফুটপাতে শীতের পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে।

বানিয়াচং উপজেলার আনাচে-কানাচে এখন এই শীতে পিঠা ব্যবসায়ীদের পিঠা বিক্রির হিড়িক পরেছে। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় চলছে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম। বানিয়াচংয়ের অলিগলিতে রাস্তার আশপাশে পিঠাপুলির ভ্রাম্যমান দোকান বসে। এসব দোকানে কিশোর থেকে শুরু করে বয়ষ্ক লোকেরা পিঠা তৈরি করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। এ পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায় তারা। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতার সমাগত বৃদ্ধি পায়। সবাই একসাথে মজা করে শীতের পিঠার স্বাদ উপভোগ করে। সকল বয়সের একসাথে পিঠা খাওয়া দেখে মনে হতে পারে কোন উৎসব চলছে। পিঠার দামও বেশি নয়। প্রতিটি পিঠা ৫-১০টাকায় বিক্রি হয়। চিতল পিঠা ৫ টাকা ও ভাপা পিঠা ১০টাকা দরে বিক্রি করে। এতে এ ব্যবসায় লাভও থাকে।

উপজেলার নতুনবাজার,বড়বাজার,আদর্শবাাজারসহ বিভিন্ন মোড়ে পিঠা বিক্রি করতে দেয়া যায়। । এছাড়া ও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রাম্যমান পিঠা বিক্রি শীতের ঐতিহ্যকে লালন করে তা বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের সমাগমে বিক্রেতারাও খুশি।

নতুনবাজারের পিঠা বিক্রেতা আজাদ জানান, তিনি প্রতি শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করেন। এসময় তার প্রতিদিন প্রায় ২-৩হাজার টাকা বিক্রি হয়, যার মধ্যে প্রায় হাজার টাকার মতো তার লাভ তাকে। বিক্রি ভালো বিধায় সে খুশি। বানিয়াচং নতুন বাজারের পিঠা বিক্রেতা জিতু মিয়া জানান, এই পিঠা দাম কম হওয়ায় সব ধরণের মানুষই এখানে ভীড় করেন পিঠা খেতে। তিনি ভাপা পিঠার সাথে সাথে চিতল পিঠাও বিক্রি করেন। কেউ কেউ আবার পিঠা কিনে নিয়ে যায় বাসার সবাই মিলে খাওয়ার জন্য। অন্যদিকে বিভিন্ন রকমের ভর্তার পিঠাও রয়েছে। যাতে কাঁচামরিছ ও সরিষাভাটা থাকে। এ ধরনের পিঠা মানভেদে ৫ থেকে ১০টাকায় বিক্রি হয়

বাজারের ব্যবসায়ী রবিউল আলম পিঠা খেতে এসে বলেন, আমি প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর এসব দোকান থেকে পিঠা খাই। শীতকালের খাবার মধ্যে পিঠা অন্যতম। আগে যদিও বাড়িতে এসব পিঠা বানানোর হিড়িক পড়তো এখন তা আর দেখা যায় না। এনজিওকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি অফিস শেষ করে মাঝে মাঝে এসব দোকান থেকে পিঠা কিনে খাই। সন্ধ্যার নাস্তাও হয়, শীতের একটা আমেজও পাওয়া যায়। এসব পিঠা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও এই ঐতিহ্যকে লালন করি।

সাংবাদিক তানজিল হাসান সাগর জানান, শীতের সাথে পিঠার যে একটা নিবিড় সম্পর্ক তা ভাপা ও চিতল পিঠা খাওয়ার মধ্যেই বোঝা যায়। আর বন্ধুদের সাথে নিয়ে তা খেতে মজাই আলাদা। প্রায় দিনই তিনি পিঠা খান বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com